যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের ফলে মার্কিন শেয়ারবাজার, বিশেষত ওয়াল স্ট্রিট অনেকটা পতনের মুখে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। পতনের ধারা লক্ষ করা যায় এশিয়ার অন্য বাজারেও। খবর এপি।
মার্কিন ফিউচার মার্কেট অবশ্য আরো অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসঅ্যান্ডপি৫০০-এর ফিউচার হ্রাস পেয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজের ফিউচার কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আর নাসডাকের ফিউচার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ নেমে গেছে।
এদিন লেনদেন শুরুর পর পরই টোকিওর নিক্কেই-২২৫ সূচকের প্রায় ৮ শতাংশ পতন ঘটে। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার এসপি/এএসএক্স ২০০-এর পতন হয়েছে ৬ শতাংশের বেশি। আর দক্ষিণ কোরিয়ার কসপির পতন হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
এছাড়া ফের কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪ শতাংশ বা ২ ডলার ৫০ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৫৯ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ২৫ সেন্ট কমে ৬৩ ডলার ৩৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
কভিড মহামারীর পর গত শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের সংকট সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। এদিন এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক কমে ৬ শতাংশ ও ডাও ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। নাসডাক কম্পোজিট ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
চলমান এ বাণিজ্য অস্থিরতায় খুব কম প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়েছে। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকের ১৪টি ছাড়া বাকি সবাই পতন দেখেছে। এছাড়া ২০২১ সালের পর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে; কমেছে তামার দামও। মার্কিন শুল্কের প্রতি চীনের প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করায় বিশ্বব্যাপী মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা এড়াতে সুদহার কমিয়ে আনতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজার এতটাই অস্থির যে সুদহার কমানো ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন ফেড চেয়ার জেরোমি পাওয়েল।